তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন করা না গেলে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, সম্মানজনক বেতন-ভাতা এবং চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। একই সঙ্গে সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম শিল্পের উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দিতে হবে। তবেই সাংবাদিকরা একটি নিরাপদ কর্মপরিবেশে স্বাধীনভাবে তাদের মেধা ও পেশাগত দক্ষতার বিকাশ ঘটাতে পারবেন।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি মিডিয়া গ্রুপের প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন এবং সেখানে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, "সাংবাদিকদের আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর করা না গেলে পেশাদার সাংবাদিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং অপসাংবাদিকতার সুযোগ তৈরি হবে। প্রকৃত ও মেধাবী সাংবাদিকদের এই পেশায় ধরে রাখতে হলে সম্মানজনক বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা অপরিহার্য।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংবাদপত্র শিল্পের মালিকদের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে তাদের বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রকে এমন নীতিগত সহায়তা দিতে হবে, যাতে গণমাধ্যম শিল্পে বিনিয়োগের ধারা অব্যাহত থাকে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় সম্পূর্ণরূপে বিশ্বাসী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিত করা, গণমাধ্যম সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় কমিশন গঠনের বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন। সরকারের মূল লক্ষ্যই হলো সকল অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে একটি আধুনিক, দায়িত্বশীল, স্বাধীন ও টেকসই গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, এখনকার প্রধান চ্যালেঞ্জ সরকার ও গণমাধ্যমের মধ্যে নয়; বরং ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত লড়াই। প্রচলিত গণমাধ্যম বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্বাধীন কনটেন্ট নির্মাতাদের উত্থানের ফলে বিজ্ঞাপনের একটি বড় অংশ ডিজিটাল মাধ্যমে চলে যাচ্ছে। তাই মূলধারার গণমাধ্যমকে প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠতে হবে।
সরকারি বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে দর্শক ও পাঠক সংখ্যাই গণমাধ্যমের স্ট্যান্ডার্ড নিরূপণের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত উল্লেখ করে মন্ত্রী এ বিষয়টি নির্ধারণে প্রযুক্তি-নির্ভর ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উক্ত মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ডেইলি সানের সম্পাদক রেজাউল করিম লোটাস, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক লোটন একরাম, কালের কন্ঠের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মেহেদী হাসান তালুকদার, নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী, নিউজ ২৪-এর বার্তা প্রধান শরিফুল ইসলাম খান, বাংলা নিউজ ২৪ ডটকম-এর সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক এ কে এম মনজুরুল ইসলাম মনজু এবং কালের কন্ঠের যুগ্ম সম্পাদক সাঈদ খান।