রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ চোখে পড়ল—একটি ছোট্ট পাখি মাটিতে অসহায় হয়ে কাতরাচ্ছে। কেন জানি না, বুকের ভেতর অদ্ভুত এক মায়া জন্ম নিল। তাকে ফেলে রেখে যেতে পারলাম না। আলতো করে তুলে নিয়ে এলাম বাসায়। শুরু হলো তার যত্ন, আর আমার অজানা এক গল্পের সঙ্গে পরিচয়।
পরে ছবিটি ডিজিটালভাবে শনাক্ত করে জানতে পারলাম—এটি আবাবিল পাখি।
মুহূর্তেই মনে পড়ে গেল পবিত্র কুরআনের সূরা আল-ফীল। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার কথা, যখন আল্লাহ তাআলা তাঁর ঘর কাবাকে রক্ষা করার জন্য ঝাঁকে ঝাঁকে আবাবিল পাখি পাঠিয়েছিলেন। তাদের ঠোঁট ও পায়ে ছিল পোড়ামাটির ছোট ছোট কঙ্কর। আল্লাহর হুকুমে সেই ক্ষুদ্র কঙ্করই ধ্বংস করে দিয়েছিল আবরাহার বিশাল হস্তিবাহিনী। পৃথিবী দেখেছিল—শক্তির আসল মালিক একমাত্র আল্লাহ।
আজ আমার হাতের মুঠোয় সেই ছোট্ট প্রাণটিকে দেখে মনে হচ্ছে, আল্লাহর প্রতিটি সৃষ্টি কত অসাধারণ, কত তাৎপর্যপূর্ণ! আকারে ক্ষুদ্র হলেও, আল্লাহ যখন কাউকে কোনো দায়িত্ব দেন, তখন সেই ক্ষুদ্র সৃষ্টি দিয়েও ইতিহাস রচিত হয়।
বিজ্ঞানও বলে, আবাবিল এমন এক বিস্ময়কর পাখি, যারা দীর্ঘ সময় আকাশে উড়ে থাকতে পারে এবং অনেক সময় উড়ন্ত অবস্থাতেই বিশ্রাম নেয়। কিন্তু আমার কাছে এর সবচেয়ে বড় পরিচয়—এটি আমাকে আল্লাহর কুদরত, রহমত এবং অসীম ক্ষমতার কথা নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছে।
আজ এই ছোট্ট পাখিটিকে বুকে আগলে রাখতে রাখতে শুধু একটি কথাই মনে হচ্ছে—
আল্লাহ চাইলে ক্ষুদ্রতম সৃষ্টি দিয়েও সবচেয়ে বড় অহংকারকে ভেঙে দিতে পারেন। তাই কখনো কোনো মানুষকে, কোনো প্রাণীকে বা কোনো সৃষ্টিকে তুচ্ছ ভাবা উচিত নয়। প্রতিটি সৃষ্টির মধ্যেই রয়েছে তাঁর নিদর্শন।
আলহামদুলিল্লাহ, এই ছোট্ট অতিথি যেন আমার ঈমানকে আরেকবার নীরবে জাগিয়ে দিল।