এক সময় দক্ষিণ অঞ্চলে অন্যতম ব্যস্ত নৌ-যোগাযোগ কেন্দ্র ছিল হিজলা উপজেলার আলিগঞ্জ লঞ্চঘাট। প্রতিদিন হাজারো যাত্রীর পদচারণায় মুখর থাকত এই ঘাট। আশপাশে ছিল জমজমাট বাজারে, সারি সারি চায়ের দোকান, রুটি-কলা বিক্রেতাদের ডাক, আর মানুষের অবিরাম আনাগোনা। বিশেষ করে ঈদের সময় ঘাটজুড়ে থাকত দীর্ঘ যাত্রীর সারি—তিল ধারণেরও জায়গা থাকত না।
আজ সেই চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। একসময়ের প্রাণচঞ্চল আলিগঞ্জ লঞ্চঘাট এখন নদীর বুকে প্রায় তলিয়ে আছে। যে ঘাট দিয়ে একসময় হাজার হাজার মানুষ পাতারহাট, উলানিয়া ও আশপাশের এলাকায় যাতায়াত করতেন, আজ সেখানে লঞ্চও প্রায় ভিড়ে না। মানুষের কোলাহলের বদলে নেমে এসেছে নীরবতা।
স্থানীয় প্রবীণদের অনেকেই স্মৃতিচারণ করে বলেন, এই ঘাট শুধু যাতায়াতের স্থান ছিল না; এটি ছিল মানুষের মিলনমেলা, ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্র এবং এলাকার অর্থনীতির প্রাণ। সময়ের পরিবর্তন, নদীভা'ঙ'ন, নৌপথের পরিবর্তন বা অবকাঠামোগত নানা কারণে ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে সেই জৌলুস।
প্রশ্ন উঠছে—কেন এমন পরিণতি হলো আলিগঞ্জ লঞ্চঘাটের? এটি কি কেবল প্রকৃতির নির্মম রূপ, নাকি পরিকল্পনার অভাব ও অবহেলার ফল?
আজ নদীর বুকে ডুবে থাকা এই ঘাট যেন নীরবে স্মরণ করিয়ে দেয়—এক সময় এখানে ছিল মানুষের স্বপ্ন, জীবিকা আর হাজারো স্মৃতির ঠিকানা।
©️