আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ২ নম্বর বার্থী ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়ছে। এরই মধ্যে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন বরিশাল উত্তর জেলা যুবদলের সদস্য তারিকুল ইসলাম কাফি। তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, মতবিনিময় ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। স্থানীয় একটি প্রতিবেদনে তাঁর সাম্প্রতিক গণসংযোগের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ধানডোবা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এলাকা থেকে তারিকুল ইসলাম কাফির গণসংযোগ কর্মসূচি শুরু হয়। পরে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড, বাজার ও জনবহুল এলাকায় যান তিনি। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে কথা বলেন।
তারিকুল ইসলাম কাফি বলেন, বার্থী ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, মাদকমুক্ত ও ডিজিটাল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর লক্ষ্য। দীর্ঘদিনের অবহেলিত সড়ক ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, গ্রামীণ অবকাঠামোর সংস্কার, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর কথা তুলে ধরেন তিনি।
স্থানীয় পর্যায়ে রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও ক্রীড়া কর্মকাণ্ডেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানা গেছে। ধানডোবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একটি ক্রীড়া অনুষ্ঠানে তাঁকে বিদ্যালয়টির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। স্থানীয় যুবসমাজের উদ্যোগে আয়োজিত একটি ফুটবল টুর্নামেন্টেও তিনি সভাপতিত্ব করেন।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও সাম্প্রতিক সময়ে গৌরনদীর বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতি দেখা গেছে। ১২ সেপ্টেম্বর টরকী বন্দরে উপজেলা প্রশাসনের পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচিতেও তিনি অংশ নেন। ওই প্রতিবেদনে তাঁকে বরিশাল জেলা উত্তর যুবদলের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে নির্বাচনে তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতা ও জনপ্রিয়তার বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের মতামত রয়েছে। তাঁর সমর্থকেরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে তরুণদের মধ্যে তাঁর একটি গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, নির্বাচনে তাঁর অবস্থান নির্ধারণে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের মতামত, অন্যান্য প্রার্থীর উপস্থিতি এবং নির্বাচনী পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
তারিকুল ইসলাম কাফির ঘোষিত উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের সেবাকে আরও সহজ করা, সড়ক ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্ব দেওয়া এবং তরুণদের কর্মসংস্থান ও ক্রীড়া কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, প্রশাসনিক সমন্বয় ও ইউনিয়ন পরিষদের সক্ষমতা কতটা কাজে লাগানো যাবে, সেটিও নির্বাচনের পর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।
বার্থী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘিরে এরই মধ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনের তফসিল, মনোনয়নপত্র দাখিল ও যাচাই-বাছাইসহ আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীদের অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে। ফলে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের কাছে কার কর্মপরিকল্পনা ও স্থানীয় উন্নয়ন ভাবনা কতটা গ্রহণযোগ্য হয়, সেটিই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।