জিবিএন বাংলা

জানালার গ্রিলে ঝুলন্ত মরদেহ, পা ছিল হাঁটু পর্যন্ত মেঝেতে

হ/ত্যা নাকি আ/ত্ম/হ/ত্যা? অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃ/ত্যু



হ/ত্যা নাকি আ/ত্ম/হ/ত্যা? অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃ/ত্যু
ছবি: সংগৃহীত

বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার টরকী বন্দর এলাকার ছাগলহাটা এলাকায় মোমেনা বেগম (২৫) নামে আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩টার দিকে একটি ভাড়া বাসা থেকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে মরদেহটির পা হাঁটু পর্যন্ত মেঝেতে লাগানো ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

নিহত মোমেনা বেগম ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার কানারামপুর গ্রামের মো. আব্দুল্লাহ মিয়ার মেয়ে। তিনি দীর্ঘদিন দুবাইয়ে বসবাস করতেন। সেখানে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রমজানপুর গ্রামের সোহাগ রাঢ়ীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে প্রায় তিন বছর আগে দুবাইতেই তাদের বিয়ে হয়।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মোমেনা প্রায় আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। প্রায় ১৫ দিন আগে তার স্বামী সোহাগ তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকে তিনি টরকী বন্দর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় শাশুড়ি, দেবর ও ছোট বোন দিনা বেগমের সঙ্গে বসবাস করছিলেন।

মোমেনার ছোট বোন দিনা বেগমের অভিযোগ, বাংলাদেশে ফেরার পর থেকেই তার স্বামী সোহাগ মোবাইল ফোনে মোমেনাকে তালাক দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

ঘটনার দিন সোমবার বিকেলে দিনা জরুরি প্রয়োজনে বাসার বাইরে যান। রাতে ফিরে এসে মোমেনার কক্ষের দরজা বন্ধ দেখতে পান।

স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউর রহমান জানান, রাত ১২টার দিকে বিদেশ থেকে মোমেনার স্বামী সোহাগ তাকে ফোন করে জানান, মোমেনার কক্ষের দরজা বন্ধ। এরপর তাকে বাসায় গিয়ে বিষয়টি দেখতে বলেন। পরে জিয়াউর রহমান আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাসায় গিয়ে দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে মোমেনার দেবর রাহাত রাঢ়ী (১৭) ও তার মায়ের সহযোগিতায় দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করেন তারা।

জিয়াউর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, কক্ষে প্রবেশ করে জানালার গ্রিলের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় মোমেনাকে দেখতে পান তারা। তবে তার পা হাঁটু পর্যন্ত মেঝেতে লাগানো ছিল। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

এদিকে নিহতের বাবা মো. আব্দুল্লাহ মিয়া দাবি করেছেন, তার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি; তাকে হত্যা করা হয়েছে। তার অভিযোগ, ছোট মেয়ে দিনা বাসায় না থাকার সুযোগে প্রবাসী সোহাগের প্ররোচনায় মোমেনার শাশুড়ি ও দেবর তাকে হত্যা করে পরে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখতে পারে।

তবে নিহতের বাবার এ অভিযোগের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. তারিক হাসান রাসেল বলেন, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে মোমেনা বেগমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

ওসি আরও বলেন, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের শাশুড়ি ও দেবরকে থানায় আনা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে সেটিও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তেই বেরিয়ে আসবে মোমেনার মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য—এটি আত্মহত্যা, নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

বিষয় : গৌরনদী বরিশাল

জিবিএন বাংলা

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


হ/ত্যা নাকি আ/ত্ম/হ/ত্যা? অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃ/ত্যু

প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার টরকী বন্দর এলাকার ছাগলহাটা এলাকায় মোমেনা বেগম (২৫) নামে আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩টার দিকে একটি ভাড়া বাসা থেকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে মরদেহটির পা হাঁটু পর্যন্ত মেঝেতে লাগানো ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

নিহত মোমেনা বেগম ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার কানারামপুর গ্রামের মো. আব্দুল্লাহ মিয়ার মেয়ে। তিনি দীর্ঘদিন দুবাইয়ে বসবাস করতেন। সেখানে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রমজানপুর গ্রামের সোহাগ রাঢ়ীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে প্রায় তিন বছর আগে দুবাইতেই তাদের বিয়ে হয়।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মোমেনা প্রায় আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। প্রায় ১৫ দিন আগে তার স্বামী সোহাগ তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকে তিনি টরকী বন্দর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় শাশুড়ি, দেবর ও ছোট বোন দিনা বেগমের সঙ্গে বসবাস করছিলেন।

মোমেনার ছোট বোন দিনা বেগমের অভিযোগ, বাংলাদেশে ফেরার পর থেকেই তার স্বামী সোহাগ মোবাইল ফোনে মোমেনাকে তালাক দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

ঘটনার দিন সোমবার বিকেলে দিনা জরুরি প্রয়োজনে বাসার বাইরে যান। রাতে ফিরে এসে মোমেনার কক্ষের দরজা বন্ধ দেখতে পান।

স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউর রহমান জানান, রাত ১২টার দিকে বিদেশ থেকে মোমেনার স্বামী সোহাগ তাকে ফোন করে জানান, মোমেনার কক্ষের দরজা বন্ধ। এরপর তাকে বাসায় গিয়ে বিষয়টি দেখতে বলেন। পরে জিয়াউর রহমান আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাসায় গিয়ে দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে মোমেনার দেবর রাহাত রাঢ়ী (১৭) ও তার মায়ের সহযোগিতায় দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করেন তারা।

জিয়াউর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, কক্ষে প্রবেশ করে জানালার গ্রিলের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় মোমেনাকে দেখতে পান তারা। তবে তার পা হাঁটু পর্যন্ত মেঝেতে লাগানো ছিল। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

এদিকে নিহতের বাবা মো. আব্দুল্লাহ মিয়া দাবি করেছেন, তার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি; তাকে হত্যা করা হয়েছে। তার অভিযোগ, ছোট মেয়ে দিনা বাসায় না থাকার সুযোগে প্রবাসী সোহাগের প্ররোচনায় মোমেনার শাশুড়ি ও দেবর তাকে হত্যা করে পরে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখতে পারে।

তবে নিহতের বাবার এ অভিযোগের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. তারিক হাসান রাসেল বলেন, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে মোমেনা বেগমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

ওসি আরও বলেন, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের শাশুড়ি ও দেবরকে থানায় আনা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে সেটিও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তেই বেরিয়ে আসবে মোমেনার মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য—এটি আত্মহত্যা, নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।


জিবিএন বাংলা

সম্পাদকঃ গোলাম কিবরিয়া তালুকদার
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ জুবায়েদ ইসলাম
প্রকাশকঃ মিজানুর রহমান মুন্সী

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জিবিএন বাংলা
হ/ত্যা নাকি আ/ত্ম/হ/ত্যা? অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃ/ত্যু
0:00 0:00
1.0x