জিবিএন বাংলা

ই-টেন্ডারে সিন্ডিকেট ভাঙতে আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত: সংসদে আইনমন্ত্রী



ই-টেন্ডারে সিন্ডিকেট ভাঙতে আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত: সংসদে আইনমন্ত্রী
জাতীয় সংসদে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

সরকারি দরপত্রে সিন্ডিকেট ভাঙতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ও বিধিমালা সংশোধনের একটি খসড়া চূড়ান্ত করেছে সরকার। খসড়াটি শিগগির সংসদে আসবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

আজ রোববার জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশ নিয়ে আলোচনার সময় তিনি এ তথ্য দেন।

বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি তোলেন। এর জবাবে প্রথমে কথা বলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান। পরে বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী।

প্রথমে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন সংস্থা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস অনুযায়ী দরপত্র কার্যক্রম পরিচালনা করে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় প্রধানত সীমিত দরপত্র পদ্ধতি বা এলটিএম এবং উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি বা ওটিএম ব্যবহৃত হয়। এলটিএমে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে কাজ দেওয়া হয়। ওটিএমে যেকোনো অঙ্কের প্রাক্কলিত মূল্যের কাজের দরপত্র হতে পারে। তবে সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা প্রণয়নের দায়িত্ব পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বলে জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

সম্পূরক প্রশ্নে মোশারফ হোসেন অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষ এবং বিরোধী রাজনৈতিক মতের ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত করা হয়েছিল। শিক্ষিত বেকার যুবকদের টেন্ডারে অংশ নেওয়ার সুযোগ বাড়াতে দ্রুত নিয়ম সহজ করার দাবি জানান তিনি।

জবাবে আবদুল মঈন খান বলেন, বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একার এখতিয়ারে নয়। আইন অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পরে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস বিভিন্ন সময়ে সংশোধিত হয়েছে।

মন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, বিগত সরকারের সময়ে এসব আইন ও বিধির মাধ্যমে এমন ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল, যাতে বিরোধী রাজনৈতিক মতের মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতেন। তিনি বলেন, সরকার চাইলে তাৎক্ষণিক কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারত। তবে ‘ডিউ প্রসেস’ বা আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণের জন্য মন্ত্রিসভা একটি উপকমিটি করেছিল।

সেই উপকমিটি কয়েক দফা বৈঠকের পর সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা যুগোপযোগী করার খসড়া চূড়ান্ত করেছে বলে জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর লক্ষ্য সরকারি দরপত্রের ‘সিন্ডিকেট’ এবং অংশগ্রহণের পথে থাকা বাধা দূর করা। খসড়াটি শিগগির সংসদে আনা হবে বলে জানান তিনি।

বিষয় : জাতীয় সংসদ দরপত্র আইন আইনমন্ত্রী

জিবিএন বাংলা

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ই-টেন্ডারে সিন্ডিকেট ভাঙতে আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত: সংসদে আইনমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সরকারি দরপত্রে সিন্ডিকেট ভাঙতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ও বিধিমালা সংশোধনের একটি খসড়া চূড়ান্ত করেছে সরকার। খসড়াটি শিগগির সংসদে আসবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

আজ রোববার জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশ নিয়ে আলোচনার সময় তিনি এ তথ্য দেন।

বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি তোলেন। এর জবাবে প্রথমে কথা বলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান। পরে বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী।

প্রথমে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন সংস্থা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস অনুযায়ী দরপত্র কার্যক্রম পরিচালনা করে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় প্রধানত সীমিত দরপত্র পদ্ধতি বা এলটিএম এবং উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি বা ওটিএম ব্যবহৃত হয়। এলটিএমে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে কাজ দেওয়া হয়। ওটিএমে যেকোনো অঙ্কের প্রাক্কলিত মূল্যের কাজের দরপত্র হতে পারে। তবে সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা প্রণয়নের দায়িত্ব পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বলে জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

সম্পূরক প্রশ্নে মোশারফ হোসেন অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষ এবং বিরোধী রাজনৈতিক মতের ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত করা হয়েছিল। শিক্ষিত বেকার যুবকদের টেন্ডারে অংশ নেওয়ার সুযোগ বাড়াতে দ্রুত নিয়ম সহজ করার দাবি জানান তিনি।

জবাবে আবদুল মঈন খান বলেন, বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একার এখতিয়ারে নয়। আইন অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পরে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস বিভিন্ন সময়ে সংশোধিত হয়েছে।

মন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, বিগত সরকারের সময়ে এসব আইন ও বিধির মাধ্যমে এমন ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল, যাতে বিরোধী রাজনৈতিক মতের মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতেন। তিনি বলেন, সরকার চাইলে তাৎক্ষণিক কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারত। তবে ‘ডিউ প্রসেস’ বা আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণের জন্য মন্ত্রিসভা একটি উপকমিটি করেছিল।

সেই উপকমিটি কয়েক দফা বৈঠকের পর সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা যুগোপযোগী করার খসড়া চূড়ান্ত করেছে বলে জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর লক্ষ্য সরকারি দরপত্রের ‘সিন্ডিকেট’ এবং অংশগ্রহণের পথে থাকা বাধা দূর করা। খসড়াটি শিগগির সংসদে আনা হবে বলে জানান তিনি।


জিবিএন বাংলা

সম্পাদকঃ গোলাম কিবরিয়া তালুকদার
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ জুবায়েদ ইসলাম
প্রকাশকঃ মিজানুর রহমান মুন্সী

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জিবিএন বাংলা
ই-টেন্ডারে সিন্ডিকেট ভাঙতে আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত: সংসদে আইনমন্ত্রী
0:00 0:00
1.0x