শাখা বরাক নদীতে জাল ফেলে সৃষ্টি করা কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা এবং অপরিকল্পিত খননের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় বিপাকে পড়েছেন কৃষক। ফলে মৌলভীবাজারের ৫০০ বিঘারও বেশি জমির রোপা আমন ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এত বিপুল পরিমাণ ফসলের ক্ষতি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে হাহাকার দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের চানপুর, কাটারাই, খঞ্জনপুর, সাটিয়াসহ কয়েকটি গ্রামের বুক চিরে বয়ে যাওয়া শাখা বরাক নদীটি দীর্ঘদিনে ভরাট হয়ে মরা খালে পরিণত হয়। ২০২০ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এক কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে সাড়ে আট কিলোমিটার অংশ খনন করে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীতীরবর্তী দখলদারদের উচ্ছেদ না করে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ ফুট প্রশস্ত করে অপরিকল্পিতভাবে খনন করা হয়েছে। এ ছাড়া নবীগঞ্জ অংশে নদীর মুখ বন্ধ থাকায় ও যথাযথ খনন না করায় বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকায় কৃত্রিম জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। তার ওপর সাম্প্রতিক সময়ে নদীর সাটিয়া পয়েন্ট ও গোরারাই গ্রামের কাছে প্রভাবশালী চক্র বাঁশের খুঁটি ও চাটায় দিয়ে মাছ ধরার ফাঁদ তৈরি করেছে। ফলে পানি নিষ্কাশন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। টানা বৃষ্টি ও তীব্র রোদে পানির নিচে জমে থাকা আমন ধান পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কাটারাই গ্রামের কৃষক ছানু মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, দুই দফায় চারা রোপণ করেও ধান ঘরে তুলতে পারছেন না। নদীর কিছু অংশ খোদাই করায় এক বিপদ, তার ওপর মাছ ধরার জন্য ফাঁদ পেতে পানি আটকে রাখা হয়েছে। দিনের রোদে তলিয়ে থাকা ধান পচে শেষ।
একই গ্রামের দুরুদ মিয়া ও খঞ্জনপুরের শিক্ষক রিংকু চৌধুরী জানান, ঋণ করে ফসল ফালানো হলেও ফাঁদের (জাল) কারণে পানি সরতে না পেরে তাদের অধিকাংশ জমির ফসল এখন পচে গেছে। এ বিষয়ে খলিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মিয়া চৌধুরী জানান, বাঁশের ফাঁদ বা খাটিয়া দেওয়ার কারণে নদীতে এক থেকে দেড় ফুট পানি জমে থাকছে। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় জেলেদের বড় একটি অংশ মাছ ধরার ফাঁদ অপসারণ করেনি। ইউপি সদস্যের মাধ্যমে এটি দ্রুত অপসারণের চেষ্টা করা হচ্ছে, অন্যথায় উপজেলা প্রশাসনের সহায়তা নেওয়া হবে। মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিব হোসেন জানান, নদীতে ফাঁদ পেতে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা তৈরি করে কৃষকের ক্ষতি করার কোনো সুযোগ নেই। যারা এ ধরনের কাজ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুতই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।