ঢাকার সাভার উপজেলার ভাকুর্তা ইউনিয়নের খাগুড়া-মধ্যপাড়া এলাকায় বসতবাড়িতে যাতায়াতের কোনো নির্ধারিত রাস্তা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় বসবাস করছেন জনতাজ বেগম (৫৫)। সম্প্রতি বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকার মালামাল খোয়া যাওয়ার পর বাড়িতে প্রবেশের রাস্তা নির্মাণ এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় গত ১ আগস্ট সাভার মডেল থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন জনতাজ বেগম। পরে বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সর্বশেষ ২৯ আগস্ট তিনি বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথ নির্মাণ এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে তৎপরতা বাড়ানোর জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
আবেদন সূত্রে জানা যায়, জনতাজ বেগমের বাড়ি খাগুড়া, মধ্যপাড়া এলাকায়। স্বামী মারা যাওয়ার পর তার দুই ছেলে প্রবাসে এবং অপর এক সন্তানকে নিয়ে তিনি ঢাকায় বসবাস করেন বলে আবেদনে উল্লেখ করেছেন। বাড়িতে যাওয়ার জন্য কোনো সরাসরি প্রবেশপথ না থাকায় বর্তমানে প্রতিবেশীর পরিত্যক্ত জায়গা ব্যবহার করে কোনোরকমে যাতায়াত করতে হয়।
স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে জনতাজ বেগমের অভিযোগ, বাড়ির প্রবেশপথের জায়গায় বাথরুম, পানির ট্যাংক, গাছপালা ও ময়লা-আবর্জনা থাকায় স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা সম্ভব হয় না। ফলে বাড়িটি অনেকটা নির্জন ও অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকে। তার দাবি, এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েই গত ১ আগস্ট রাতে দুর্বৃত্তরা বাড়িতে ঢুকে চুরি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে।
থানায় দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, ওই রাত আনুমানিক ২টার দিকে দুর্বৃত্তরা বাড়ির ছাদের টিন কেটে ঘরে প্রবেশ করে। পরদিন স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাড়িতে গিয়ে তিনি চুরির বিষয়টি দেখতে পান।
অভিযোগে বলা হয়, চোরেরা একটি এলইডি টেলিভিশন, সাতটি সিলিং ফ্যান, রান্নাঘরের বিভিন্ন সামগ্রী, চারটি ডিনার সেট, আলমারিতে থাকা মূল্যবান পোশাক, দরজার ১০টি তালা, তিনটি ঝরনা, ১৫টি পানির কলসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রী নিয়ে যায়। এ সময় ঘরের মূল্যবান আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এতে তার প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
জনতাজ বেগমের দাবি, বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াতের ব্যবস্থা এবং নিরাপদ প্রবেশপথ থাকলে বাড়িটি এভাবে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকত না। তাই তিনি প্রতিবেশীর পরিত্যক্ত জমির সঙ্গে জমি বিনিময় অথবা প্রচলিত বাজারমূল্যে জমির মূল্য পরিশোধের মাধ্যমে হলেও একটি প্রবেশপথ তৈরিতে আগ্রহী।
চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে ইতোমধ্যে সাভার মডেল থানায় অভিযোগ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি প্রশাসনের কাছে তদন্ত ও উদ্ধার তৎপরতা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া আবেদনের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে বাড়িটির যাতায়াতের বাস্তব পরিস্থিতি সরেজমিনে যাচাই, প্রবেশপথের সম্ভাব্যতা নির্ধারণ এবং চুরি ও ভাঙচুরের ঘটনার তদন্ত করা হলে বিষয়টির প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।