জিবিএন বাংলা

৫০ শয্যা বিশিষ্ট ‍সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

৫০ শয্যা বিশিষ্ট ‍সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
৫০ শয্যা বিশিষ্ট ‍সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

নানা সঙ্কটের মধ্য দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। হাপাতালটিতে আধুনিক যন্ত্রপাতি, বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে আধুনিক জেনারেটর ও কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার থাকলেও রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগীরা।

হাসপাতালটিতে জেনারেটর থাকলেও লোডশেডিংয়ের সময় প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুতের অভাবে কষ্ট করেন রোগীরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অপারেশন থিয়েটারে অপারেশন হওয়ার দাবি করলেও দীর্ঘদিন অপারেশন থিয়েটারে নিয়মিত অস্ত্রোপচার হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসক সঙ্কট, ওষুধের স্বল্পতা ও রোগীদের আবাসন সঙ্কটসহ বিভিন্ন সেবা নিয়ে রোগীদের ভোগান্তির যেন শেষ নেই।

সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারটি তালাবদ্ধ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপারেশন থিয়েটার থাকলেও সেখানে নিয়মিত অস্ত্রোপচার করা হয় না। বছরে এক-দু’টি অস্ত্রোপচার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অথচ হাসপাতালের আশপাশে গড়ে ওঠা কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক অস্ত্রোপচার হচ্ছে। হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে থাকা একটি দালালচক্র হাসপাতালের আশপাশের ক্লিনিকগুলোতে অস্ত্রোপচারের রমরমা বাণিজ্যে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সরাইল সদরের নাথপাড়ার বাসিন্দা সোহেল মিয়া ও দেওড়া গ্রামের রোকেয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, চিকিৎসক সঙ্কটের কারণে তারা ঠিকমতো চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না। প্রয়োজনীয় সব ওষুধ হাসপাতাল থেকে না পেয়ে বাইরে থেকে কিনতে হয়। বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালে জেনারেটর থাকা সত্ত্বেও তা চালু করা হয় না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় জেনারেটরটি নষ্ট অবস্থায় আছে। এছাড়া হাসপাতালের খাদ্য তালিকা অনুযায়ীও যথাযথভাবে খাবার পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ করেন তারা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে চিকিৎসক পদে ৩০ জন কর্মরত থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন মাত্র ১৬ জন। তবে তাদের মধ্যে পাঁচজন চিকিৎসক ডেপুটেশনে রয়েছেন। বাকিদের মধ্যে কয়েকজন চিকিৎসক প্রায়ই ছুটিতে থাকায় জনবল সঙ্কটে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা সৈয়দটুলা গ্রামের রশিদ মিয়া বলেন, ‘আমরা দরিদ্র মানুষ। ৬০ টাকা গাড়িভাড়া দিয়ে হাসপাতালে এসে ১০ টাকা মূল্যের একটি অ্যান্টাসিড ট্যাবলেট পেয়েছি। বাকি ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে বলা হয়েছে।’

কুট্টাপাড়া গ্রামের স্বপ্না বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘ডায়াবেটিস পরীক্ষা করতে বাইরে যে মেশিনে ২৫ টাকা লাগে, হাসপাতালেও একই ধরনের মেশিনে পরীক্ষা করে ৬০ টাকা নেয়া হচ্ছে।’

সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘প্রতিদিন হাসপাতালে ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। সীমিত জনবল দিয়েই আমরা আন্তরিকভাবে সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি। তবে চিকিৎসক ও জনবল সঙ্কটের কারণে অনেক সময় চাপ সামলাতে কষ্ট হয়।’

তবে তিনি দাবি করেন, হাসপাতালে প্রতি মাসে চারটি সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়।

তিনি আরো বলেন, ‘শূন্য পদে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। দুইজন চিকিৎসককে পদায়ন করা হলেও তারা এখনো কাজে যোগ দেননি। দ্রুত জনবল নিয়োগ হলে রোগীদের আরো ভালো সেবা দেয়া সম্ভব হবে বলে।’

সরকারি এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার পাশাপাশি আধুনিক যন্ত্রপাতির যথাযথ ব্যবহার, নিয়মিত অস্ত্রোপচার ও রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও আবাসন সুবিধা দ্রুত বর্ধিতকরনসহ অন্য সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানায় এলাকাবাসী।

বিষয় : চিকিৎসক চিকিৎসা সঙ্কট

জিবিএন বাংলা

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


৫০ শয্যা বিশিষ্ট ‍সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নানা সঙ্কটের মধ্য দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। হাপাতালটিতে আধুনিক যন্ত্রপাতি, বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে আধুনিক জেনারেটর ও কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার থাকলেও রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগীরা।

হাসপাতালটিতে জেনারেটর থাকলেও লোডশেডিংয়ের সময় প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুতের অভাবে কষ্ট করেন রোগীরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অপারেশন থিয়েটারে অপারেশন হওয়ার দাবি করলেও দীর্ঘদিন অপারেশন থিয়েটারে নিয়মিত অস্ত্রোপচার হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসক সঙ্কট, ওষুধের স্বল্পতা ও রোগীদের আবাসন সঙ্কটসহ বিভিন্ন সেবা নিয়ে রোগীদের ভোগান্তির যেন শেষ নেই।

সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারটি তালাবদ্ধ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপারেশন থিয়েটার থাকলেও সেখানে নিয়মিত অস্ত্রোপচার করা হয় না। বছরে এক-দু’টি অস্ত্রোপচার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অথচ হাসপাতালের আশপাশে গড়ে ওঠা কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক অস্ত্রোপচার হচ্ছে। হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে থাকা একটি দালালচক্র হাসপাতালের আশপাশের ক্লিনিকগুলোতে অস্ত্রোপচারের রমরমা বাণিজ্যে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সরাইল সদরের নাথপাড়ার বাসিন্দা সোহেল মিয়া ও দেওড়া গ্রামের রোকেয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, চিকিৎসক সঙ্কটের কারণে তারা ঠিকমতো চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না। প্রয়োজনীয় সব ওষুধ হাসপাতাল থেকে না পেয়ে বাইরে থেকে কিনতে হয়। বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালে জেনারেটর থাকা সত্ত্বেও তা চালু করা হয় না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় জেনারেটরটি নষ্ট অবস্থায় আছে। এছাড়া হাসপাতালের খাদ্য তালিকা অনুযায়ীও যথাযথভাবে খাবার পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ করেন তারা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে চিকিৎসক পদে ৩০ জন কর্মরত থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন মাত্র ১৬ জন। তবে তাদের মধ্যে পাঁচজন চিকিৎসক ডেপুটেশনে রয়েছেন। বাকিদের মধ্যে কয়েকজন চিকিৎসক প্রায়ই ছুটিতে থাকায় জনবল সঙ্কটে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা সৈয়দটুলা গ্রামের রশিদ মিয়া বলেন, ‘আমরা দরিদ্র মানুষ। ৬০ টাকা গাড়িভাড়া দিয়ে হাসপাতালে এসে ১০ টাকা মূল্যের একটি অ্যান্টাসিড ট্যাবলেট পেয়েছি। বাকি ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে বলা হয়েছে।’

কুট্টাপাড়া গ্রামের স্বপ্না বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘ডায়াবেটিস পরীক্ষা করতে বাইরে যে মেশিনে ২৫ টাকা লাগে, হাসপাতালেও একই ধরনের মেশিনে পরীক্ষা করে ৬০ টাকা নেয়া হচ্ছে।’

সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘প্রতিদিন হাসপাতালে ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। সীমিত জনবল দিয়েই আমরা আন্তরিকভাবে সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি। তবে চিকিৎসক ও জনবল সঙ্কটের কারণে অনেক সময় চাপ সামলাতে কষ্ট হয়।’

তবে তিনি দাবি করেন, হাসপাতালে প্রতি মাসে চারটি সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়।

তিনি আরো বলেন, ‘শূন্য পদে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। দুইজন চিকিৎসককে পদায়ন করা হলেও তারা এখনো কাজে যোগ দেননি। দ্রুত জনবল নিয়োগ হলে রোগীদের আরো ভালো সেবা দেয়া সম্ভব হবে বলে।’

সরকারি এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার পাশাপাশি আধুনিক যন্ত্রপাতির যথাযথ ব্যবহার, নিয়মিত অস্ত্রোপচার ও রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও আবাসন সুবিধা দ্রুত বর্ধিতকরনসহ অন্য সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানায় এলাকাবাসী।


জিবিএন বাংলা

সম্পাদকঃ গোলাম কিবরিয়া তালুকদার
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ জুবায়েদ ইসলাম
প্রকাশকঃ মিজানুর রহমান মুন্সী

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জিবিএন বাংলা
৫০ শয্যা বিশিষ্ট ‍সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
0:00 0:00
1.0x