জিবিএন বাংলা

কোন পুলিশ বাহিনী নিয়ে কাজ করছি এটা যেন খেয়াল রাখি: জাহেদ উর রহমান

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়নে পুলিশের অতীত ভূমিকা ও বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশ বাহিনীর একটি বড় অংশের মনোবল ভেঙে গেছে। সেই ‘ধ্বংসপ্রাপ্ত পুলিশ বাহিনীকে’ নিয়েই সরকার কাজ করছে। তাদের আত্মবিশ্বাস ফিরতে সময় লাগবে। তিনি বলেন, ‘মাত্র ছয় মাস গেল। আশা করি, এই সমস্যাটার সমাধান ধীরে ধীরে হবে। কোন পুলিশ বাহিনী নিয়ে কাজ করছি, এটা যেন খেয়াল রাখি।’ আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কি আসলে খুব খারাপ? এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কে একটি মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।    অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘সেই সময় ১৫০-২০০ মাজার ভেঙে ফেলা হয়েছে। মব হয়ে অসংখ্য... যাত্রা, নাটক, মেলা, জাস্ট মেলা বসে—আড়াইশ বছরের পুরোনো মেলা বসতে পারে নাই। তিনজন অভিনেত্রী শোরুম উদ্বোধন করবেন, সেটাও হতে দেওয়া হয় নাই। বাংলাদেশে এই ঘটনাগুলো ঘটেছে।’ জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘ঘোষণা দিয়ে দুটো পত্রিকা অফিসে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই সময় বাংলাদেশে স্টেট এক্সিস্ট করে নাই। বিভিন্ন তুচ্ছ দাবি নিয়ে রাস্তা বন্ধ করে বসে থাকা হয়েছিল।  বাংলাদেশে তখন কোনো স্টেট এক্সিস্ট করেছিল বলে মনে করি না।’ তিনি বলেন, ‘আমি বলছি না অপরাধ হচ্ছে না, অপরাধ হচ্ছে। সেগুলো আপনারা আনছেন, এটাও লজিক্যাল। একটা অপরাধও যেন না ঘটে বা ঘটলে সেটার দায় সরকারের, মানতে আমি একেবারেই দ্বিধা করছি না। কিন্তু আমরা কোন জায়গায় আছি, কতটুকু আছি সেই ব্যাপারটা একটু বোঝা দরকার আছে।’ তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনি যদি ডেটা দেখেন, হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা বা হত্যাকাণ্ডের মামলার সংখ্যা গত ইন্টারিমের সময়ের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু অন্য অপরাধ—চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের মামলার সংখ্যা কমেছে। ওভারঅল মামলা দিয়েই হয়তো ডেটাটা বলতে পারব, সেটা কিন্তু আবার কমেছে।’ বর্তমান সরকারের সময়ে বিভিন্ন অপরাধের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা বা হত্যাকাণ্ডের মামলার সংখ্যা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। তবে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অন্যান্য অপরাধের মামলা কমেছে।

কোন পুলিশ বাহিনী নিয়ে কাজ করছি এটা যেন খেয়াল রাখি: জাহেদ উর রহমান