জিবিএন বাংলা

চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কে ফের উচ্ছেদ অভিযান

যানজট নিরসন ও সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করতে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে আবারও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। সোমবার সকাল ১০টায় চাঁদপুরের ওয়্যারলেস এলাকা থেকে তিন দিনব্যাপী এই উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম দিনেই মহাসড়কের পাশের বাবুরহাট বাজার ও মতলব সড়ক মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চাঁদপুর সফরের আগে এবং গত ৩ মে এই সড়কে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু তিন মাসের মাথাতেই পুনরায় এসব জায়গা দখল করে আগের মতোই স্থাপনা গড়ে তোলে দখলদাররা।  সওজ কর্মকর্তাদের দাবি, আগের অভিযানের সুফল তারা পেয়েছেন এবং পুরোনো উচ্ছেদস্থলে খুব কমই নতুন স্থাপনা হয়েছে। তবে এবার অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ভূমিতে দ্রুতই গাছ লাগানোর ও স্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।  চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহা. ইউনুস আলী বলেন, চাঁদপুর-কুমিল্লা-ফরিদগঞ্জ মহাসড়কের খাজুরিয়া থেকে বর্ডার বাজার পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে ছয় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থাপনা সরিয়ে নিতে আগেই দখলদারদের নোটিশ দেওয়া হলেও তা কার্যকর না হওয়ায় নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আপাতত আগামী তিন দিন এ অভিযান চলবে। তিনি আরও বলেন, উচ্ছেদ শেষে দখলমুক্ত জায়গায় সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণের অংশ হিসেবে উদ্ধার হওয়া জায়গাগুলোতে বৃক্ষরোপণ করা হচ্ছে। এটি নিয়মিত চলবে।  তিনি বলেন, এই অবৈধ দখলে বিশেষ করে বাবুরহাট এলাকায় সব সময় যানজট লেগে থাকে। এখানে যানজট নিরসনে উদ্ধার হওয়া জায়গায় ইন্টারসেকশন করা হবে, যেন যানবাহন চলাচল করতে কোনো সমস্যা না হয়। এই সড়কের আরও কয়েকটি পয়েন্ট আছে যেখানে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলায় প্রতিনিয়ত যানজট এবং ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। আগেও কয়েকবার এবং সবশেষ ৩ মে অভিযান হওয়ার পর আবারও সেসব জায়গার কিছু অংশ অবৈধ দখলদাররা দখল করে নিয়েছে এবং দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তুলেছে— এমন অভিযোগের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ওই রকম দখলদার যে নেই বা চেষ্টা নেই, তা বলব না। তবে এর সংখ্যা খুবই কম। যেগুলো গড়ে তোলা হয়েছে বলে কেউ মনে করেন, এমনটা আমাদের নজরে বা হিসাবে এলে কোনো রেহাই নেই। নতুন-পুরোনো কেউই থাকতে পারবে না, কারও অবৈধ স্থাপনা সড়কপাশে তথা সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় আমরা রাখব না। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা করছে। এসব অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ বা নির্মূল করতে আপনাদেরসহ আমরা সবার সহযোগিতা চাই।’  চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ রানা বলেন, সড়ক বিভাগের দখল হওয়া জায়গাগুলো উদ্ধারে জেলা প্রশাসন ও সড়ক বিভাগ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। জেলা প্রশাসনসহ অন্যান্যরা এখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছে। 

চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কে ফের উচ্ছেদ অভিযান