১৩ মামলা, ৫ বার কারাবরণ নির্যাতন পেরিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. কামাল হোসেন বিপ্লব
আসন্ন গৌরনদী উপজেলা সরিকল ৭নং পাইলট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন মো. কামাল হোসেন বিপ্লব। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা মামলা, কারাবরণ ও হামলার মধ্য দিয়ে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থাকার দাবি করেছেন তিনি। ১৯৯০ সালে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে পথচলা শুরু করে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলে জানান কামাল হোসেন বিপ্লব।মো. কামাল হোসেন বিপ্লবের পারিবারিকভাবেও রয়েছে রাজনৈতিক ঐতিহ্য। তাঁর বাবা মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কবির উদ্দিন মিয়া বিএনপির শাসনামলে গ্রাম সরকারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে জানান তিনি। বাবার রাজনৈতিক আদর্শ ও মূল্যবোধ থেকেই তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হন বলে তাঁর বক্তব্য। কামাল হোসেন বিপ্লব জানান, রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিভিন্ন সময়ে ১৩টি রাজনৈতিক মামলার মুখোমুখি হয়েছেন এবং পাঁচবার কারাবরণ করেছেন। এছাড়া তাঁর ওপর দুই দফা হামলাও হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও নির্যাতন তাঁকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারেনি; বরং দলের প্রতি তাঁর অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে।ছাত্রজীবনে বাংলা কলেজ ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ঢাকা যুবদলের মিরপুর থানা শাখার সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। গৌরনদীতে ফিরে সরিকল ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে প্রায় ১০ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানান। এরপর যুবদলের গৌরনদী উপজেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি, বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং গৌরনদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।তিনি বলেন, ২০২১ সাল থেকে গৌরনদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন এবং এখনো সেই দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে সামনে রেখে এবার তিনি সরিকল ৭ন পাইলট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চান।কামাল হোসেন বিপ্লবের দাবি, শুধু তিনি নন, তাঁর পরিবারের সদস্যরাও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। তাঁর ছেলে সাবেক বরিশাল জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তাঁর ভাইদের বিরুদ্ধেও আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মামলা দিয়ে হয়রানি ও কারাবরণ করানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ব্যক্তিজীবনে কামাল হোসেন বিপ্লব দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক। তাঁর দুই মেয়েরই বিয়ে হয়েছে এবং তাঁর ছেলে বর্তমানে ইতালিতে অবস্থান করছেন বলে জানান তিনি।দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার অভিজ্ঞতা, মামলা-হামলা ও কারাবরণের স্মৃতি এবং দলের প্রতি দীর্ঘদিনের আনুগত্যকে পুঁজি করে এবার নির্বাচনী মাঠে নামতে চান মো. কামাল হোসেন বিপ্লব। তাঁর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করে সরিকল ইউনিয়নের জনগণ তাঁকে সমর্থন দেবেন। কামাল হোসেন বিপ্লব বলেন, ১৯৯০ সালে ছাত্রদলের রাজনীতি দিয়ে আমার রাজনৈতিক জীবন শুরু। নানা প্রতিকূলতা, মামলা ও নির্যাতনের মধ্যেও আমি দলের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। মানুষের পাশে থেকে সরিকল ইউনিয়নের উন্নয়ন ও কল্যাণে কাজ করতে চাই।