নেছারাবাদে কলেজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই ভাইয়ের বিরোধ, তালা ভেঙে প্রবেশ
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কবি নজরুল ইসলাম বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই সহোদর মো. কামরুজ্জামান ও আসাদুজ্জামান টুলুর দীর্ঘদিনের বিরোধে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বুধবার কলেজের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন আসাদুজ্জামান টুলু। তিনি নিজেকে কলেজের অধ্যক্ষ দাবি করে জানান, আদালতের রায়ের ভিত্তিতেই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন।তবে কামরুজ্জামান এ ঘটনাকে ভিন্নভাবে দেখছেন। তাঁর দাবি, মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় হওয়ার আগেই কয়েকজন ব্যক্তি কলেজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, হাইকোর্টে সংশ্লিষ্ট রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত রয়েছে। কিছুদিন আগে রাতের আঁধারে কে বা কারা কলেজে নতুন তালা লাগিয়ে যায়। পরে সেই তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে অফিস থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও রেজুলেশন খাতাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।কামরুজ্জামান বলেন, আসাদুজ্জামান টুলু কখনো কলেজে এসে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেননি। প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই তিনি কলেজ পরিচালনা করে আসছেন। তাঁর দাবি, কলেজ কখনো পুরোপুরি বন্ধ ছিল না এবং প্রতিবছর এখানকার শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।অন্যদিকে আসাদুজ্জামান টুলু বলেন, কলেজ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই তিনি অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বড় ভাইয়ের সঙ্গে অধ্যক্ষ পদ নিয়ে বিরোধের কারণে দীর্ঘদিন মামলা চলেছে। আদালতের রায়ের ভিত্তিতেই তিনি কলেজে প্রবেশ করে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন।২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি পরবর্তী সময়ে এমপিওভুক্ত হয়। তবে অধ্যক্ষের পদ নিয়ে দুই ভাইয়ের বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমার কারণে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা রয়েছে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কলেজটি পরিচালিত হয়ে আসছে ,বিভিন্ন নথিতেও প্রতিষ্ঠানটির নাম পাওয়া যায়।কলেজের ভূমিদাতা পরিবারের সদস্য শরীফ মো. মাসুদ পারভেজ বলেন, দীর্ঘদিনের বিরোধে কলেজটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের আলোকে প্রতিষ্ঠানটি চালু হলে এলাকার শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।স্থানীয় বিএনপি নেতা আজহারুল ইসলাম টুটুল বলেন, বিরোধ যা-ই থাকুক, দ্রুত তা মীমাংসা করে কলেজটির পাঠদান চালু করা জরুরি। আদালতের রায়ের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। রায় অনুযায়ী বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়ে থাকলে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কলেজটি পুনরায় চালু করা সম্ভব।স্থানীয় বাসিন্দা ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের শিল্পবিষয়ক সম্পাদক নুরুল আলম বিপ্লবও কলেজটি দ্রুত চালুর দাবি জানান।নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দত্ত বলেন, কলেজটির অধ্যক্ষ পদ নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ ও মামলা রয়েছে। এ কারণে এর আগে একাধিকবার প্রতিষ্ঠানটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সম্ভব হয়নি। আদালতের রায়ের বিষয়ে তিনি অবগত নন।দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্যেই তালা ভেঙে কলেজে প্রবেশের ঘটনায় নতুন করে বিরোধ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আদালতের সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় দ্রুত বিরোধের নিষ্পত্তি করে কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হবে।