শুধু শিক্ষকদের ওপর ভরসা নয়, সন্তান গঠনে দায়িত্ব নিতে হবে পরিবারকেও, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি বলেছেন, শুধু শিক্ষকদের ওপর নির্ভর করে সন্তানকে সুশিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত বিকাশে পরিবার ও অভিভাবকের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের আরও যত্নবান ও দায়িত্বশীল হতে হবে।শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা পরিষদ মুক্ত মঞ্চ চত্বরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দুঃস্থ, অসহায় ও প্রতিবন্ধী এবং জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. তানজিনা খাতুন এবং সঞ্চালনা করেন সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল আওয়াল।মন্ত্রী বলেন, আপনার সন্তানের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে আপনাকেই। শুধু শিক্ষকদের ওপর ভরসা করলে হবে না। শিক্ষকরা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন, কিন্তু একজন সন্তানের চরিত্র গঠন, নৈতিক শিক্ষা এবং ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি তৈরি হয় পরিবার থেকেই।তিনি বলেন, অভিভাবকদের দায়িত্ব শুধু সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠানো নয়, বরং তার সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করা। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং কী ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে, এসব বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা প্রয়োজন।ডা. জাহিদ হোসেন আরও বলেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার শিশু-কিশোরদের জীবনধারায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। ফলে অভিভাবকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। সন্তানরা কী ধরনের তথ্য ও বিনোদনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।তিনি বলেন, শুধু ভালো ফলাফল করলেই হবে না। সন্তানকে একজন সৎ, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং মানবিক গুণাবলির চর্চাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। পরিবারে সুন্দর ও ইতিবাচক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে শিশুদের মানসিক বিকাশও সুস্থ ও স্বাভাবিক হবে।অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, চেক গ্রহীতা এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।