সড়কটি ঢাকা বিভাগের আওতাধীন কিন্তু সেখানে সংস্কারকাজ করেছে নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগ। নিজেদের এলাকার বেহাল সড়ক বাদ দিয়ে অন্য দপ্তরের অংশে কাজ করায় এর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঢাকা সড়ক বিভাগ বলছে এ কাজের জন্য তাদের অনুমতি নেওয়া হয়নি। তারা ইটগুলো তুলে নিতে বলেছে। গতকাল শুক্রবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক-সংলগ্ন শিমরাইল মোড়ের কাছে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগকে সংস্কারকাজ করতে দেখা যায়। বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বালু ও আস্ত ইট দিয়ে খানাখন্দ ভরাট করা হয়।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উত্তরপাশে শিমরাইল মোড় থেকে ঢাকা সড়ক বিভাগের আওতাধীন সড়ক শুরু হয়েছে। সরেজমিন দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সওজ মহাসড়ক থেকে উত্তর দিকে ৩০০-৪০০ ফুট ভেতরে ঢুকে ঢাকা সড়ক বিভাগের আওতাধীন সড়কের খানাখন্দ ইট-বালু দিয়ে ভরাট করছে। ইট বহনকারী নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথের ট্রাকচালক বাচ্চু মিয়া বলেন, উপসহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন স্যার আমাকে কাজটি করার দায়িত্ব দিয়েছেন। দুই হাজার ইট ও দুই গাড়ি ভিটি বালু দিয়ে খানাখন্দ ভরাট করছি।
এ বিষয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সড়কটি ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের সংযোগস্থলে হওয়ায় কাজটি নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের ডিপার্টমেন্টালি করা হচ্ছে। ঢাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনুমতি নেওয়া হয়নি। তবে জায়গাটি গর্ত হয়েছিল তাই কাজ করেছি। পাশেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নারায়ণগঞ্জ সওজের আওতাধীন চট্টগ্রামমুখী লেনের বেশকিছু এলাকায় খানাখন্দ ভরে আছে। সেটি সংস্কার না করে অন্য বিভাগের সড়ক সংস্কার করা নিয়ে সাধারণ মানুষ নানা আলোচনা করছেন। এ কাজের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহিম বলেন, নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগ এবং ঢাকা সড়ক বিভাগের সংযোগস্থল এটি। সুতরাং সেখানে খানাখন্দ ভরাট করলে সমস্যা কোথায়?
ঢাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সিনথিয়া আজমেরী খান বলেন, ‘সড়কের ওই অংশে খানাখন্দ ভরাট কিংবা সংস্কারকাজের জন্য নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে আমাদের অনুমতি নেওয়া হয়নি। এমনকি আমাদের কিছুই জানায়নি। তাই আমরা কাজটি বন্ধ করার জন্য বলেছি। তাদের ইট বালু তারা উঠিয়ে নিয়ে যাবে। অফিস খুললে চিঠি পাঠিয়ে এ ধরনের কাজ আর না করতে বলব।’ এদিকে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মহাসড়কের শিমরাইলে চট্টগ্রামমুখী লেন খানাখন্দে বেহাল হয়ে আছে। কিন্তু স্থায়ী মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেয়নি নারায়ণগঞ্জ সওজ। সমকালে গত ১৮ জুন মহাসড়কের শিমরাইল অংশ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর খানাখন্দে ইট ও বালু ফেলা হলেও পরে প্রবল বর্ষণে তা ভেসে গেছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাংলাদেশ আন্তঃজেলা ট্রাকচালক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আইউব আলী মুন্সী বলেন, আমার মার্কেটের সামনেই এ খানাখন্দ। প্রতিদিন এখানে যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে। সৃষ্টি হয় যানজট। ঢাকা সড়ক বিভাগের শেষ অংশ হওয়ায় তারা সংস্কার না করে ফেলে রেখেছে। নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগ হয়তো তাদের কার্যালয়ের কাছে এবং সংযোগ সড়কের খুব কাছাকাছি হওয়ায় জনদুর্ভোগ লাঘবে কাজটি করেছে।