পিরোজপুরের কালীগঙ্গা নদীতে ট্রলার দুর্ঘটনায় মা-মেয়ের মৃত্যুতে ঘাট পরিচালনায় অনিয়ম ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ট্রলারচালকের গাফিলতি প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি এবং ঘাটের কথিত সিন্ডিকেট ভেঙে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এদিকে নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে নেছারাবাদ উপজেলা প্রশাসন। নিহতের স্বামী শংকর বেপারীর হাতে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক আহমেদের।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে নেছারাবাদ ও নাজিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী শ্রীরামকাঠী ফেরিঘাটসংলগ্ন কালীগঙ্গা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ৫০ জনের বেশি যাত্রী ও ছয়টি মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচলকারী একটি ট্রলার কাত হয়ে দুর্ঘটনায় শিকার হয়। অধিকাংশ যাত্রী সাঁতরে ও স্থানীয়দের সহায়তায় তীরে উঠতে সক্ষম হলেও নিখোঁজ হন নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের ভরতকাঠী গ্রামের রিনা বেপারী ও তাঁর আট বছরের মেয়ে অদ্রিতা বেপারী।
দুর্ঘটনার দিন রাতেই অদ্রিতার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে নাজিরপুর উপজেলার মধুরাবাদ এলাকায় কালীগঙ্গা নদীতে ভাসমান অবস্থায় রিনা বেপারীর মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ডুবে যাওয়া পাঁচটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করে গাড়ির মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাত ৮টার পর ঘাটে একটি ট্রলার রেখে যাত্রীদের কার্যত জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়। পর্যাপ্ত নৌযান না থাকায় যাত্রীরা বাধ্য হয়ে ওই ট্রলারে নদী পার হন। তাঁদের ধারণা, অতিরিক্ত যাত্রী ও মোটরসাইকেল বহনের কারণে ট্রলারটি ভারসাম্য হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
স্থানীয়রা বলেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ট্রলারের ধারণক্ষমতা, যাত্রীসংখ্যা, মোটরসাইকেল পরিবহনের নিয়ম, চালকের ভূমিকা এবং ঘাট পরিচালনার পদ্ধতি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। চালকের গাফিলতি বা ঘাট পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারও অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কথিত সিন্ডিকেট ভেঙে নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর, পর্যাপ্ত নৌযান নিশ্চিত এবং রাতে নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মঞ্জুর। তিনি উদ্ধার কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ সময় পিরোজপুরে ফায়ার সার্ভিসের নিজস্ব ডুবুরি দল স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা এবং ঘাটের অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কারও অবহেলা বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালীগঙ্গার এ দুর্ঘটনা নদীপথে নিরাপদ যাতায়াত এবং ঘাট ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। এলাকাবাসীর দাবি, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘাটে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।