জিবিএন বাংলা

পরকীয়া ও চুরির অভিযোগের মামলায় আ.লীগ নেতা ইতালী ফরহাদ কারাগারে

বরিশালের গৌরনদীতে এক ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে প্ররোচনার মাধ্যমে নিয়ে যাওয়া এবং তার বসতঘর থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা ফরহাদ হোসেন বেপারী ওরফে ‘ইতালী’ ফরহাদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।ফরহাদ হোসেন গৌরনদী পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানা গেছে।মামলার বাদী গৌরনদী বন্দরের ব্যবসায়ী মো. মাহমুদুল হাসান জানান, তার স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ঘর থেকে প্রায় ৩০ লাখ ৮৬ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে তিনি আদালতে নালিশি মামলা করেন।মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার মামলার আসামি ফরহাদ হোসেন বেপারী বরিশালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।মামলার অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেন, প্রায় ১৪ বছর আগে আঃ রাজ্জাক হাওলাদারের মেয়ে নাদিরা আক্তার রুনার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথাবার্তা বলতেন এবং বিভিন্ন সময় বাড়ির বাইরে যেতেন। বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করায় পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হয় বলেও মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।নালিশি দরখাস্তে আরও অভিযোগ করা হয়, ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট সোমবার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ফরহাদ হোসেন বাদীর বসতবাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীকে প্ররোচনা ও ভুল বুঝিয়ে সঙ্গে নিয়ে যান। একই সময়ে বসতঘরের স্টিলের আলমারিতে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন বাদী।বাদীর দাবি অনুযায়ী, নিয়ে যাওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে রয়েছে ৪ ভরি ওজনের একটি গলার শিতাহার, দেড় ভরি ওজনের দুইটি কানের দুল, দেড় ভরি ওজনের একটি গলার চেইন, ৩ ভরি ওজনের দুইটি হাতের রুলি, ২ ভরি ওজনের চারটি আংটি এবং ৩ ভরি ওজনের শিশুদের তিনটি চেইন। এছাড়া নগদ ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এসব স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকার মোট মূল্য প্রায় ৩০ লাখ ৮৬ হাজার টাকা বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।মামলার বাদী আরও অভিযোগ করেন, স্ত্রীকে তার বাবার বাড়ি, আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে আদালতে মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয় বলেও তিনি মামলার আরজিতে উল্লেখ করেছেন।মামলায় আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার, রানা হাওলাদার, রুমা বেগম, ইমরান তালুকদার ও জুনায়েত আহমেদকে সাক্ষী করা হয়েছে। বাদী আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনগত ব্যবস্থা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন।এদিকে, মামলার বাদী মো. মাহমুদুল হাসান  দাবি করেছেন, ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে নারীঘটিত বিষয়ে আরও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।তবে মামলায় আনা অভিযোগ অস্বীকার বা সমর্থন করে ফরহাদ হোসেন বেপারীর কোনো বক্তব্য এ প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি।

পরকীয়া ও চুরির অভিযোগের মামলায় আ.লীগ নেতা ইতালী ফরহাদ কারাগারে