জিবিএন বাংলা

কাজিরহাটে চুরির হিড়িক: প্রশাসনের নীরবতায় চরম আতঙ্কে এলাকাবাসী



কাজিরহাটে চুরির হিড়িক: প্রশাসনের নীরবতায় চরম আতঙ্কে এলাকাবাসী

​বরিশাল জেলার কাজিরহাট থানার অন্তর্গত আন্দারমানিক ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ভংগা গ্রামে ফের দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টার দিকে মো. তোফাজ্জেল হোসেন হাওলাদারের বসতঘরে এই চুরির ঘটনা ঘটে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় একের পর এক এমন ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ​ভুক্তভোগী তোফাজ্জেল হোসেন জানান, গভীর রাতে চোরেরা ঘরের চালের টিন খুলে কৌশলে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা আলমারি ভেঙে ১০ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ৪০,০০০ (চল্লিশ হাজার) টাকা লুট করে নিয়ে যায়। তিনি চোরদের উপস্থিতি টের পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে, কিন্তু তার আগেই চোরেরা মালামাল নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজিরহাট থানা পুলিশ নিয়মিত মেইন সড়কে টহল দিলেও গ্রামের অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলোতে তাদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। প্রশাসনের এই উদাসীনতাকে পুঁজি করেই চোরেরা বারবার এমন দুর্ধর্ষ চুরির সাহস পাচ্ছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা এখন রাতে ঘুমাতে ভয় পাই। মেইন রাস্তায় পুলিশ থাকলেও গ্রামের ভেতরের রাস্তাগুলোতে কোনো টহল নেই। পুলিশি টহল শুধু লোক দেখানো, যা অপরাধ দমনে ব্যর্থ হচ্ছে।"​ভুক্তভোগী পরিবার কাজিরহাট থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে সামগ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে বেশ কিছু জোরালো দাবি তোলা হয়েছে: পুলিশি টহল শুধু মেইন রাস্তায় সীমাবদ্ধ না রেখে গ্রামের অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলোতে নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা করা। চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে দ্রুত পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা। রাতের বেলা এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রাম পুলিশ বা স্থানীয় পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, এলাকাটিকে নিরাপদ রাখতে প্রশাসনের কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করা না গেলে বড় ধরনের অঘটন ঘটার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।এলাকার সূত্রে আরো জানা যায়। প্রায় একমাস আগে লতা ইউনিয়নে একই রাতে তিনটি বাড়ি চুরির ঘটনা ঘটে। কাজিরহাট থানায় একটি অজ্ঞাতনামা মামলার অজু হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আনিস এই ঘটনায় কাউকে সনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এলাকায় সাধারণ মানুষের ভিতরে ব্যাপক চাপা ক্ষোভ।

বিষয় : বরিশাল মেহেন্দিগঞ্জ

জিবিএন বাংলা

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬


কাজিরহাটে চুরির হিড়িক: প্রশাসনের নীরবতায় চরম আতঙ্কে এলাকাবাসী

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬

featured Image


​বরিশাল জেলার কাজিরহাট থানার অন্তর্গত আন্দারমানিক ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ভংগা গ্রামে ফের দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টার দিকে মো. তোফাজ্জেল হোসেন হাওলাদারের বসতঘরে এই চুরির ঘটনা ঘটে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় একের পর এক এমন ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ​ভুক্তভোগী তোফাজ্জেল হোসেন জানান, গভীর রাতে চোরেরা ঘরের চালের টিন খুলে কৌশলে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা আলমারি ভেঙে ১০ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ৪০,০০০ (চল্লিশ হাজার) টাকা লুট করে নিয়ে যায়। তিনি চোরদের উপস্থিতি টের পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে, কিন্তু তার আগেই চোরেরা মালামাল নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজিরহাট থানা পুলিশ নিয়মিত মেইন সড়কে টহল দিলেও গ্রামের অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলোতে তাদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। প্রশাসনের এই উদাসীনতাকে পুঁজি করেই চোরেরা বারবার এমন দুর্ধর্ষ চুরির সাহস পাচ্ছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা এখন রাতে ঘুমাতে ভয় পাই। মেইন রাস্তায় পুলিশ থাকলেও গ্রামের ভেতরের রাস্তাগুলোতে কোনো টহল নেই। পুলিশি টহল শুধু লোক দেখানো, যা অপরাধ দমনে ব্যর্থ হচ্ছে।"​ভুক্তভোগী পরিবার কাজিরহাট থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে সামগ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে বেশ কিছু জোরালো দাবি তোলা হয়েছে: পুলিশি টহল শুধু মেইন রাস্তায় সীমাবদ্ধ না রেখে গ্রামের অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলোতে নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা করা। চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে দ্রুত পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা। রাতের বেলা এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রাম পুলিশ বা স্থানীয় পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, এলাকাটিকে নিরাপদ রাখতে প্রশাসনের কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করা না গেলে বড় ধরনের অঘটন ঘটার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।এলাকার সূত্রে আরো জানা যায়। প্রায় একমাস আগে লতা ইউনিয়নে একই রাতে তিনটি বাড়ি চুরির ঘটনা ঘটে। কাজিরহাট থানায় একটি অজ্ঞাতনামা মামলার অজু হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আনিস এই ঘটনায় কাউকে সনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এলাকায় সাধারণ মানুষের ভিতরে ব্যাপক চাপা ক্ষোভ।


জিবিএন বাংলা

সম্পাদকঃ গোলাম কিবরিয়া তালুকদার
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ জুবায়েদ ইসলাম
প্রকাশকঃ মিজানুর রহমান মুন্সী

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জিবিএন বাংলা
কাজিরহাটে চুরির হিড়িক: প্রশাসনের নীরবতায় চরম আতঙ্কে এলাকাবাসী
0:00 0:00
1.0x