বরিশাল জেলার কাজিরহাট থানার ১নং আন্ধারমানিক ইউনিয়নের ভংগাতালিমুল ইসলাম দাখিল মাদ্রাসার সামনের সড়কটি দীর্ঘ সময় ধরে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে আছে। সংস্কারের অভাবে রাস্তাটির বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় হাজার হাজার মানুষের। অথচ বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসের বাণী ছাড়া কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাদ্রাসার সামনের রাস্তাটি এখন চলাচলের অনুপযোগী। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা আর খানাখন্দে ভরা রাস্তায় রূপ নেয় এটি। এতে প্রতিদিন মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতিতে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা রাস্তাটি পাকা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নিলেও জয়ের পর তারা আর ফিরে তাকাননি। বিগত সরকারের আমলের কথা উল্লেখ করে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান মাহফুজুল আলম লিটন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু বাস্তবে কোনো উদ্যোগ নেননি।
অন্যদিকে, বর্তমান ১নং আন্ধারমানিক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন খোকন খান নির্বাচনের সময় ইউনিয়নে প্রতিটি কাঁচা রাস্তা পাকাকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর তার সেই প্রতিশ্রুতির কোনো বাস্তবায়ন না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নেতারা ভোটের সময় আমাদের ঘরে ঘরে আসেন, আকাশ-কুসুম স্বপ্ন দেখান। কিন্তু ভোট চলে গেলে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না। রাস্তাটি আজ মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী সরকারের প্রতিনিধিদের মতো বর্তমান চেয়ারম্যানও জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। জনদুর্ভোগের এই দায় তিনি এড়াতে পারেন না।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে এমন বেহাল রাস্তা মোটেও কাম্য নয়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাস্তাটি কার্পেটিংয়ের আওতায় না আনলে জনদুর্ভোগ আরও চরমে পৌঁছাবে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকার সর্বস্তরের জনগণ। ।