গাজীপুর মহানগরীর সাইনবোর্ড-ভূষিরমিল এলাকায় একটি জুয়েলারি দোকানের মালিককে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
রোববার (২৩ আগস্ট) বিকালে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে। তবে দোকান থেকে কী পরিমাণ স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে- তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
নিহত আবুল কালাম আজাদ (৪২) কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ভোলাইন গ্রামের নোনা মিয়ার ছেলে। তিনি ‘সাদিয়া জুয়েলার্স’ এর স্বত্বাধিকারী ছিলেন। তার শরীর ও গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতে নিজের দোকানের ভেতরেই ঘুমিয়ে পড়েন আবুল কালাম আজাদ। সাধারণত সকাল ৯টার মধ্যে দোকান খুলে ব্যবসা শুরু করতেন তিনি। তবে রোববার সকাল পেরিয়ে দুপুর হলেও দোকানটি বন্ধ দেখতে পান আশপাশের ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘ সময় দোকান না খোলায় তাদের সন্দেহ হয়। পরে নিহতের ভাই মো. কামাল উদ্দিনসহ স্থানীয় লোকজন দোকানের সামনে গিয়ে শাটার বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পান। একপর্যায়ে তালা ভেঙে দোকানের ভেতরে ঢুকে মেঝেতে আবুল কালাম আজাদের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। আরও পড়ুনআরও পড়ুনখাল খননের কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও
খবর পেয়ে গাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠায়। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন এবং ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা শুরু করেন। তাৎক্ষণিকভাবে কি পরিমাণ স্বর্ণালংকার লুট হয়েছে তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
গাজীপুর মেট্রোপলিটনের গাছা থানার ওসি মো. গোলাম রাব্বানী বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আবুল কালাম আজাদকে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।