ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের কারণে টানা তৃতীয় দিনের মতো দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে বিষয়টি আলোচনায় উঠতে পারে এবং সেখান থেকে সমাধানের পথ তৈরি হলে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর পর্যন্ত অচলাবস্থা নিরসনে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।
ফলে বুধবারের আগে বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এতে বাংলাদেশের হিলি স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়েছে। ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা, কর্মহীন হয়ে পড়েছেন শ্রমিকরা।
ভারতের হিলি এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি বিকাশ মণ্ডল মঙ্গলবার সকালে মুঠোফোনে জানান, পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের তুলনায় হিলি বন্দর নানা প্রশাসনিক জটিলতা ও বাধার কারণে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যা সমাধানের দাবি জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ না পাওয়ায় ব্যবসায়ীদের স্বার্থে গত ৩০ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে সব ধরনের পণ্য রপ্তানি এবং বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বুধবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাটে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হবে। সেখানে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা, বন্দরের অবকাঠামোগত সমস্যা এবং ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সমস্যার সমাধান হলে ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
বাংলাদেশের হিলি কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিনুর ইসলাম মণ্ডল বলেন, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ভারতীয় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বন্দর চালুর বিষয়ে কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি। তবে মুখ্যমন্ত্রীর সফরের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। দীর্ঘ তিনদিন ধরে বাণিজ্য বন্ধ থাকায় বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সবাই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী মো. ওয়াহেদুর রহমান রিপন জানান, অনেক ব্যবসায়ী ইতোমধ্যে ভারত থেকে পণ্য আমদানির জন্য এলসি খুলেছেন। এছাড়া বেশ কিছু পণ্যবাহী ট্রাক সীমান্তের ওপারে অপেক্ষমাণ রয়েছে। সময়মতো পণ্য দেশে প্রবেশ করতে না পারায় ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তিনি দ্রুত সমস্যার সমাধান করে আমদানি-রপ্তানি চালুর দাবি জানান।
বন্দরের শ্রমিক গোলাপ হোসেন বলেন, তিনদিন ধরে কোনো পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ বা বের হচ্ছে না। দিনমজুর শ্রমিকরা কাজ না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চললে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।
এদিকে হিলি স্থল কাস্টমস স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা পারভেজ জানান, দুই দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও কাস্টমসের দাপ্তরিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। পূর্বে আমদানি করা পণ্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর খালাসের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।