শীত আসতে এখনও অনেক দিন বাকি। তবে আগাম শীতের সবজি উঠতে শুরু করেছে বগুড়ার বাজারগুলোতে। সিম, কপি, মূলাসহ বেশিরভাগ আগাম শীতকালীন এসব সবজি বাজারে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। শীতের আগাম সবজি বাজারে এলেও দামে স্বস্তি ফেরেনি। পেঁপে, লাউ আর মিষ্টিকুমড়া ছাড়া কম দামে মিলছে না অন্য কোনো সবজি।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বগুড়ার পাইকারি ও খুচরা বাজারে শীতের আগাম সবজি ওঠা শুরু করলেও সরবরাহ এখনও চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত না থাকায় দাম চড়া। শীতের সবজি পুরোদমে বাজারে আসতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে।
ক্রেতারা জানান, বাজারে শিম, ফুলকপি ও মুলার মতো শীতকালীন সবজির দেখা মিলছে। তবে দাম এখনো সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। এতে বাজার সামলাতে বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের। হতাশা বাড়ছে ক্রেতাদের মধ্যে।
এদিকে স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করছেন, কৃষি উপকরণের দাম বাড়ার কারণে এবং অপেক্ষাকৃত বেশি জমিতে চাষাবাদ হওয়ায় বাজারে সবজির তেমন দাম পাচ্ছেন না তারা।
শুক্রবার বগুড়া শহরের রাজাবাজার, ফতেহ আলী বাজার ও কলোনী বাজারসহ অন্যান্য বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি সিম ১৬০ টাকা, ফুলকপি ৮০, বাঁধাকপি প্রতিটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচামরিচ ১২০ টাকা, কচুরমুখী, ঝিংগা, শশা, ওল ও করলা ৬০ টাকা, পটল, চিচিংগা, পেঁয়াজ ও মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকা, আলু মানভেদে ২৫ থেকে ৪০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, ঢেড়স ও মূলা ৪০, আদা ১৬০, রসুন ১২০ থেকে ২০০ টাকা এবং টমাটো ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া বাজারে প্রতি কেজি বিআর-২৮ চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকা, স্বর্ণা ৫২, কাটারিভোগ ৭২ থেকে ৭৫ টাকা, মিনিকেট ৭০ থেকে ৭২ টাকা, নাজিরশাইল ৯০ থেকে ৯২ টাকা এবং আতপ চাল মানভেদে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চালের দাম গত কয়েক মাস ধরেই স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারে প্রতি কেজি প্যাকেট আটা ৬০টাকা এবং ময়দা ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা আটা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। এক লিটার বোতলজাত সয়াবিনের দাম পড়ছে ২০৫ টাকা, তিন লিটার ৬২০ এবং পাঁচ লিটার বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ থেকে হাজার টাকায়। খোলা সয়াবিন তেল এক লিটারের দাম পড়ছে ১৮৭ টাকা পর্যন্ত।
সবজির পাশাপাশি মাছের বাজারেও চড়া দাম। শহরের ফতেহ আলী বাজারে দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের রুই মাছ প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, আড়াই থেকে তিন কেজি ওজনের কাতল মাছ ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি বেচা-কেনা হতে দেখা যায়। এছাড়াও পাবদা মাছ আকারভেদে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, টেংরা ৪৫০ থেকে ৬০০, শিং মাছ ৩৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
ফার্মের মুরগির ডিমের হালি ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা, ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৭০, ককরেল মুরগি ২৮০ এবং দেশি মুরগি ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা যায়। গরুর মাংসের কেজি ৭৫০ এবং খাসির মাংস এ দিন ১১শ’ টাকা বিক্রি হতে দেখা যায়।
ফতেহ আলী বাজারে সবজি ব্যবসায়ী খোকন মিয়া জানান, বাজারে শীতকালীন সবজি উঠতে শুরু করেছে। তবে স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতে তুলনামূলক সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেশি। কয়েক দিনের মধ্যে সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে শুরু করবে।
বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরীজীবী রেজাউল করিম বলেন, নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন সীমিত আয়ের মানুষ। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের কোনো মিল নেই। সবজিসহ সামগ্রিক বাজারে স্বস্তি নেই।
বিডি-প্রতিদিন/এআইডি