জিবিএন বাংলা

শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অঙ্গীকার, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করে ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত

ভূরঘাটায় সংঘর্ষ-বোমাবাজির পর দুই পক্ষের বিরোধের মীমাংসা



ভূরঘাটায় সংঘর্ষ-বোমাবাজির পর দুই পক্ষের বিরোধের মীমাংসা
ছবিঃ জিবিএন বাংলা

বরিশালের গৌরনদী ও মাদারীপুরের কালকিনি সীমান্তবর্তী ভূরঘাটা বাসস্ট্যান্ডে সংঘর্ষ, বোমাবাজি ও ভাঙচুরের ঘটনায় দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধের শান্তিপূর্ণ মীমাংসা হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে স্থানীয়ভাবে আয়োজিত সালিশ বৈঠকে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের বিরোধে না জড়িয়ে পরস্পরের সঙ্গে মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের অঙ্গীকার করেন দুই পক্ষের লোকজন।

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক সংলগ্ন স্থানীয় একটি মাঠে অনুষ্ঠিত সালিশ বৈঠকে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিশোর কুমার দাস, কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল আলম, ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোলায়মান মাহমুদ, গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তারিক হাসান রাসেল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, সদস্য সচিব জহির সাজ্জাদ হান্নান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টুসহ বিরোধে জড়িত দুই পক্ষের লোকজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সালিশ বৈঠকে উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে দুই পক্ষের বক্তব্য ও অভিযোগ শোনা হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধটি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, গৌরনদী উপজেলার খান্জ্ঞাপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফজলু সরদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি সংঘর্ষে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, ক্ষয়ক্ষতি ও চিকিৎসাবাবদ ব্যয়ের পরিমাণ তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দেবে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সালিশকারীদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা জানানো হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাতে ভূরঘাটা বাসস্ট্যান্ডে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কালকিনি ও গৌরনদীর দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, বোমাবাজি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ সময় বাসস্ট্যান্ডের কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, একটি লোকাল বাসের টিকিট কাটাকে কেন্দ্র করে দুই ব্যক্তির মধ্যে প্রথমে তর্ক-বিতর্ক ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জেরে দুই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সালিশ বৈঠকে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের নিষ্পত্তি হওয়ায় গৌরনদী ও কালকিনি সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক ফিরে আসবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘাত এড়ানো সম্ভব হবে।

বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষের লোকজন ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সংঘাতে না জড়িয়ে পরস্পরের সঙ্গে মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করার অঙ্গীকার করেন।

জিবিএন বাংলা

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬


ভূরঘাটায় সংঘর্ষ-বোমাবাজির পর দুই পক্ষের বিরোধের মীমাংসা

প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image


বরিশালের গৌরনদী ও মাদারীপুরের কালকিনি সীমান্তবর্তী ভূরঘাটা বাসস্ট্যান্ডে সংঘর্ষ, বোমাবাজি ও ভাঙচুরের ঘটনায় দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধের শান্তিপূর্ণ মীমাংসা হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে স্থানীয়ভাবে আয়োজিত সালিশ বৈঠকে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের বিরোধে না জড়িয়ে পরস্পরের সঙ্গে মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের অঙ্গীকার করেন দুই পক্ষের লোকজন।

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক সংলগ্ন স্থানীয় একটি মাঠে অনুষ্ঠিত সালিশ বৈঠকে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিশোর কুমার দাস, কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল আলম, ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোলায়মান মাহমুদ, গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তারিক হাসান রাসেল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, সদস্য সচিব জহির সাজ্জাদ হান্নান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টুসহ বিরোধে জড়িত দুই পক্ষের লোকজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সালিশ বৈঠকে উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে দুই পক্ষের বক্তব্য ও অভিযোগ শোনা হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধটি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, গৌরনদী উপজেলার খান্জ্ঞাপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফজলু সরদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি সংঘর্ষে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, ক্ষয়ক্ষতি ও চিকিৎসাবাবদ ব্যয়ের পরিমাণ তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দেবে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সালিশকারীদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা জানানো হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাতে ভূরঘাটা বাসস্ট্যান্ডে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কালকিনি ও গৌরনদীর দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, বোমাবাজি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ সময় বাসস্ট্যান্ডের কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, একটি লোকাল বাসের টিকিট কাটাকে কেন্দ্র করে দুই ব্যক্তির মধ্যে প্রথমে তর্ক-বিতর্ক ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জেরে দুই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সালিশ বৈঠকে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের নিষ্পত্তি হওয়ায় গৌরনদী ও কালকিনি সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক ফিরে আসবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘাত এড়ানো সম্ভব হবে।

বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষের লোকজন ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সংঘাতে না জড়িয়ে পরস্পরের সঙ্গে মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করার অঙ্গীকার করেন।


জিবিএন বাংলা

সম্পাদকঃ গোলাম কিবরিয়া তালুকদার
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ জুবায়েদ ইসলাম
প্রকাশকঃ মিজানুর রহমান মুন্সী

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জিবিএন বাংলা
ভূরঘাটায় সংঘর্ষ-বোমাবাজির পর দুই পক্ষের বিরোধের মীমাংসা
0:00 0:00
1.0x