ওষুধের নির্ধারিত খুচরা মূল্য (এমআরপি) বাস্তবায়ন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ এবং ন্যায্যমূল্যে ওষুধ বিক্রি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি, গৌরনদী উপজেলা শাখার উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বরিশালের সহকারী পরিচালক সুমী রানী মিত্র। তিনি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব, নির্ধারিত মূল্যে ওষুধ বিক্রির বাধ্যবাধকতা এবং আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়ে উপস্থিত ফার্মেসি মালিক ও ওষুধ ব্যবসায়ীদের বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুমী রানী মিত্র বলেন, ভোক্তার আস্থা অর্জন করতে হলে প্রতিটি ফার্মেসিকে আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। ওষুধের গায়ে উল্লেখিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) অনুযায়ী বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে। অতিরিক্ত মূল্য আদায়, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি কিংবা ভোক্তা অধিকারবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় সরকারি সংস্থাগুলোর পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি, গৌরনদী উপজেলা শাখার সভাপতি এস. এম. মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, সৎ ও স্বচ্ছ ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে ভোক্তার আস্থা অর্জনই ওষুধ ব্যবসায়ীদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। এমআরপি বাস্তবায়ন এবং আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনায় সমিতির পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাজী আঃ রাজ্জাক খান, হাজী জামাল উদ্দিন, জি এম আলম, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, মো. আনিচুর রহমান, খালিদ শওকত উল্লাহসহ বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।
অনুষ্ঠানটি সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন এবি সিদ্দিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক মো. আনিচুর রহমান।
সভায় এমআরপি কার্যকর বাস্তবায়ন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, ন্যায্যমূল্যে ওষুধ বিক্রি, ফার্মেসি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পরে উপস্থিত সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
বিশিষ্টজনদের মতে, ওষুধের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করা, ভোক্তাদের সঙ্গে স্বচ্ছ আচরণ এবং আইনানুগ ব্যবসা পরিচালনা নিশ্চিত করা গেলে স্বাস্থ্যসেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।