জিবিএন বাংলা

পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শন করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: পুশ-ইন প্রতিরোধ ও সীমান্ত সুরক্ষায় কঠোর বার্তা



পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শন করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: পুশ-ইন প্রতিরোধ ও সীমান্ত সুরক্ষায় কঠোর বার্তা


 গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাহউদ্দিন আহমদ আজ সকালে পিলখানাস্থ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তর পরিদর্শন করেছেন। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিজিবি সদর দপ্তরে এটিই তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন।

​বিজিবি সদর দপ্তরে পৌঁছালে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি সুসজ্জিত চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। এরপর তিনি বিজিবির অপারেশনাল, প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক এবং চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং গ্রহণ করেন।

​পরিদর্শন শেষে পিলখানাস্থ শহীদ শাকিল আহমেদ হলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বিজিবি সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সারাদেশে বিজিবির বিভিন্ন রিজিয়ন, সেক্টর, ব্যাটালিয়ন ও বিওপিতে কর্মরত সদস্যরা ভিডিও টেলিকনফারেন্স (ভিটিসি)-এর মাধ্যমে এই সভায় যুক্ত হন।

​সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি সদস্যদের দেশপ্রেম, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন:

​"‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই মূলমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিজিবি সদস্যরা ভবিষ্যতেও শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অনন্য ভূমিকা পালন করে যাবে।"

​তিনি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশ-ইন, মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালান এবং মানবপাচার প্রতিরোধে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে গুজব ও অপপ্রচার থেকে সতর্ক থেকে আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং সর্বক্ষেত্রে আইনের শাসন অনুসরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

​সভায় বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় শেষে মন্ত্রী পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং পিলখানাস্থ 'সীমান্ত গৌরব', '২০০৯ শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ', 'দীপ্ত সীমান্ত' বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও 'সীমান্ত কুঞ্জ' এলাকায় একটি বৃক্ষরোপণ করেন।

​পরে শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন। অবৈধ পুশ-ইন প্রসঙ্গে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন:

​"সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কোনো ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ-ইন করতে দেওয়া হয়নি। বিজিবি ও সীমান্তবর্তী জনগণের সহযোগিতায় সব ধরনের পুশ-ইনের অপচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।"

​তিনি আরও জানান, কোনো ব্যক্তি যদি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের নাগরিক হন, তবে প্রচলিত দ্বিপক্ষীয় ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট দেশের মাধ্যমে তালিকা পাঠানোর পর জাতীয়তা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর বাইরে কাউকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। সাম্প্রতিক সময়ে পুশ-ইন প্রতিরোধে অসাধারণ ভূমিকা রাখা সদস্যদের স্বীকৃতি প্রদানের জন্য নিয়মিত পদকের পাশাপাশি অতিরিক্ত সম্মাননা বা প্রণোদনার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

​মিয়ানমার সীমান্তের চলমান সংঘাত ও মাদক চোরাচালানের ঝুঁকি বিবেচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সীমান্তের ওপারে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখে ১০৯ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রস্তাব সরকার বিবেচনা করছে। এছাড়া ল্যান্ডমাইন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ইতোমধ্যে বিজিবিকে মাইন ডিটেকশন যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে।

​তিনি আরও জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে ডগ স্কোয়াডের প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিজিবির ডগ স্কোয়াডের সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক যানবাহন, অস্ত্র, প্রযুক্তি সংযোজন এবং হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ সব ধরনের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

​সবশেষে, সাম্প্রতিক বন্যায় দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ বিতরণে বিজিবির মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মাননীয় মন্ত্রী।

জিবিএন বাংলা

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬


পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শন করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: পুশ-ইন প্রতিরোধ ও সীমান্ত সুরক্ষায় কঠোর বার্তা

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬

featured Image


 গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাহউদ্দিন আহমদ আজ সকালে পিলখানাস্থ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তর পরিদর্শন করেছেন। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিজিবি সদর দপ্তরে এটিই তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন।

​বিজিবি সদর দপ্তরে পৌঁছালে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি সুসজ্জিত চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। এরপর তিনি বিজিবির অপারেশনাল, প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক এবং চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং গ্রহণ করেন।

​পরিদর্শন শেষে পিলখানাস্থ শহীদ শাকিল আহমেদ হলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বিজিবি সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সারাদেশে বিজিবির বিভিন্ন রিজিয়ন, সেক্টর, ব্যাটালিয়ন ও বিওপিতে কর্মরত সদস্যরা ভিডিও টেলিকনফারেন্স (ভিটিসি)-এর মাধ্যমে এই সভায় যুক্ত হন।

​সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি সদস্যদের দেশপ্রেম, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন:

​"‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই মূলমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিজিবি সদস্যরা ভবিষ্যতেও শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অনন্য ভূমিকা পালন করে যাবে।"

​তিনি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশ-ইন, মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালান এবং মানবপাচার প্রতিরোধে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে গুজব ও অপপ্রচার থেকে সতর্ক থেকে আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং সর্বক্ষেত্রে আইনের শাসন অনুসরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

​সভায় বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় শেষে মন্ত্রী পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং পিলখানাস্থ 'সীমান্ত গৌরব', '২০০৯ শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ', 'দীপ্ত সীমান্ত' বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও 'সীমান্ত কুঞ্জ' এলাকায় একটি বৃক্ষরোপণ করেন।

​পরে শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন। অবৈধ পুশ-ইন প্রসঙ্গে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন:

​"সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কোনো ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ-ইন করতে দেওয়া হয়নি। বিজিবি ও সীমান্তবর্তী জনগণের সহযোগিতায় সব ধরনের পুশ-ইনের অপচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।"

​তিনি আরও জানান, কোনো ব্যক্তি যদি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের নাগরিক হন, তবে প্রচলিত দ্বিপক্ষীয় ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট দেশের মাধ্যমে তালিকা পাঠানোর পর জাতীয়তা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর বাইরে কাউকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। সাম্প্রতিক সময়ে পুশ-ইন প্রতিরোধে অসাধারণ ভূমিকা রাখা সদস্যদের স্বীকৃতি প্রদানের জন্য নিয়মিত পদকের পাশাপাশি অতিরিক্ত সম্মাননা বা প্রণোদনার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

​মিয়ানমার সীমান্তের চলমান সংঘাত ও মাদক চোরাচালানের ঝুঁকি বিবেচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সীমান্তের ওপারে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখে ১০৯ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রস্তাব সরকার বিবেচনা করছে। এছাড়া ল্যান্ডমাইন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ইতোমধ্যে বিজিবিকে মাইন ডিটেকশন যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে।

​তিনি আরও জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে ডগ স্কোয়াডের প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিজিবির ডগ স্কোয়াডের সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক যানবাহন, অস্ত্র, প্রযুক্তি সংযোজন এবং হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ সব ধরনের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

​সবশেষে, সাম্প্রতিক বন্যায় দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ বিতরণে বিজিবির মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মাননীয় মন্ত্রী।


জিবিএন বাংলা

সম্পাদকঃ গোলাম কিবরিয়া তালুকদার
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ জুবায়েদ ইসলাম
প্রকাশকঃ মিজানুর রহমান মুন্সী

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত জিবিএন বাংলা
পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শন করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: পুশ-ইন প্রতিরোধ ও সীমান্ত সুরক্ষায় কঠোর বার্তা
0:00 0:00
1.0x