বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় একটি আবাসিক মাদ্রাসার কক্ষ থেকে জান্নাতুল ফেরদাউস (১১) নামে এক ছাত্রীর গলায় ফাঁস দিয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সোমবার (২০ জুলাই) রাত আনুমানিক সারে ১০টার সময় উপজেলার গেরাকুল গ্রামের সীমান্তবর্তী কাসেমাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জান্নাতুল ফেরদাউস নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার নালুয়া গ্রামের প্রবাসী মোঃ সান্টুর মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই সে মায়ের সঙ্গে গৌরনদীর কাসেমাবাদ গ্রামে নানার বাড়িতে বসবাস করছিল। সে স্থানীয় মিফতাহুল জান্নাহ হিফজুল কুরআন মডেল মহিলা মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের আবাসিক ছাত্রী ছিল।
গেরাকুল গ্রামের জহুরুল ইসলাম আকনের কাসেমাবাদের বাড়িটি মাসিক ৭ হাজার টাকা ভাড়া নিয়ে গত বছরের নভেম্বর মাসে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। নিহত জান্নাতুল ফেরদাউস এর কাছ থেকে মাসিক ১০০০ টাকা বেতন নেওয়া হতো। কালনা গ্রামের মো. আবু ইউসুফ খন্দকার ও তার হাফেজা স্ত্রী নুন নাহার প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন।
বর্তমানে এক জন শিক্ষিকার তত্ত্বাবধানে প্রায় ১৫ জন ছাত্রী আবাসিকভাবে সেখানে পড়াশোনা করছে। আরো একজন শিক্ষিকা ছিল তিনি ছাত্রীদের সাথে ভালো আচরণ করত না বিধায় শিক্ষিকাকে বাদ দেওয়া হয়।
এ সময় এক জন অভিভাবক বলেন আমার মেয়ে সুমাইয়া এখানে পড়ে তারা খুবই ভালো।
হাজিরা খাতা দেখার চেষ্টা করি কিন্তু সুমাইয়া নামে এই মাদ্রাসায় ভর্তি আছে। এখানে পড়ে সেরকম কোন আইডি দেখাতে পাড়ে নাই। ভর্তি ফরমে নাম নাই, হাজিরা খাতায় নাম নাই। শুধু মাত্র তারিখ বিহি একটা হাজিরা খাতা দেখা যায়। তাতে দেখা যায় ২০ জনের নাম কিন্তু তাতেও সুমাইয়ার নাম নাই।
হাজিরা খাতায় ২০ জন শিক্ষার্থীর নাম রয়েছে একটি পৃষ্ঠায় এবং ৮ তারিখে ঘরে টিক চিহ্ন রয়েছে। বাকি মাস কোথায় গেল প্রশ্ন রয়ে যায়। এ বিষয় আরো জানতে চাইলে আবু ইউসুফ খন্দকার বিরক্ত বোধ করেন।
এ সময় জান্নাতুল ফেরদাউস মা সুবর্ণা সুলতানা বলেন পূর্বে অল্প বয়সের একজন শিক্ষিকা ছিল সে এখন নাই। সে সময় আমার মেয়ে একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখে তার নিজের পরনে কোন কাপর নাই। সে সময় সরমে কিছু বলি নাই।
গেরাকুল এলাকার একটি মাদ্রাসার পরিচালক বলেন, এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আবাসিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা থাকা উচিত।
নিহতের স্বজনদের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যা। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল বলেন, "মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।